এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার বিকল্প চিন্তা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কারণে বন্ধ আছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বছরের ১ ফেব্রুয়ারি এসএসসি ও ১ এপ্রিল এইচএসসি পরীক্ষা হওয়ার কথা। কিন্তু এবারে তা হয়নি।

করোনার কারণে বন্ধ রয়েছে পরীক্ষা কার্যক্রম। এর মধ্যেই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করে দুইবার পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করলেও সেটি থেকে সরে আসতে হয়েছে।

তাই করোনার বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতি বিবেচনায় আপাতত পরীক্ষা বাদে বিকল্প পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করার বিষয়ে চিন্তা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

কর্মকর্তারা বলেন, করোনার কারণে আমরা কবে নাগাদ শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরতে পারি সেটির কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই আপাতত পরীক্ষা বাদে বিকল্প পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করার চিন্তা করছে মন্ত্রণালয়। তবে বিকল্প পদ্ধতির জন্য শিক্ষাবোর্ডসহ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটিও করা হয়েছে।

কমিটির সুপারিশ পেলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেয়া হবে জানা গিয়েছে। সিদ্ধান্ত ছিল যে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ৬০ দিন ক্লাস করিয়ে পরীক্ষায় বসানো এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ৮৪ দিন ক্লাস করে পরীক্ষায় বসবে।

কিন্তু বারবার তারিখ ঘোষণা করলেও করোনা বারবারই প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। তাই বিকল্প চিন্তা করতে হচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। পরীক্ষা কীভাবে নেওয়া হবে তা নিয়ে চিন্তায় মন্ত্রণালয় ও শিক্ষাবোর্ডের কর্তা ব্যক্তিরা।

আর পরীক্ষা নিয়ে নানান অনীহা ও চরম উদ্বেগে সময় কাটাচ্ছে শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা। এ অবস্থায় ‘অটো পাস’ না দিয়ে অন্য কোনো উপায়ে মূল্যায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। ‘জাতীয় মূল্যায়ন পরামর্শক কমিটি’ গঠন করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিকল্প হিসেবে অ্যাসাইনমেন্টে মাধ্যমে বা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের ভিত্তিতে মূল্যায়নের পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। তবে বোর্ডগুলো এবার আর ‘অটো পাস’ দিতে রাজি নয়৷

এ ব্যাপারে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর নেহাল আহমেদ বলেন, পরীক্ষার কি হতে পারে সে ব্ষিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো দেয়নি মন্ত্রণালয়। পরীক্ষা না হলে এর বিকল্প কি হতে পারে সে বিষয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে। এরইমধ্যে এসএসসি ফরম পূরণের কাজ শেষ। করোনার কারণে স্থগিত করা হয়েছে এইচএসসি ফরম পূরণ। প্রশ্নপত্র ছাপানো, কেন্দ্র ঠিক করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আমরা শেষ করে রাখছি। সরকার থেকে যখন যে সিদ্ধান্ত আসবে অল্প সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করতে পারবো।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুর হোসেন বলেছেন, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে আমরা খুব গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। যেহেতু আপাতত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যাচ্ছে না, তাই যত বিকল্প পদ্ধতি আছে সেগুলোর প্রস্তুতি শেষ করে রাখছি। যখন যেটা প্রয়োগ করা যায়, সেটাই বাস্তবায়ন করা হবে। কী হবে, সেটি খুব দ্রুতই জানানো হবে।’

উল্লেখ্য, এই গল্পের শুরু ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। ওই সময় নোভেল করোনাভাইরাস চিহ্নিত হওয়ার পর হয়ত এর সুদূরপ্রসারী ফল কত ব্যাপক হতে পারে তা অনেকে কল্পনাও করতে পারেনি। কিন্তু সেই ভাইরাসই বদলে দিয়েছে পৃথিবীকে। বাংলাদেশে এই ভাইরাস প্রথম চিহ্নিত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ। গত বছর ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*