বুদ্ধিমান কাক কি না পারে !! বাজায় হারমোনিয়াম, খেলে বুদ্ধির খেলা। দেখুন ভাইরাল ভিডিওটি

এত্ত কাছে বাস করে একটা প্রাণী, অথচ তার স্ট্যাটাস তো প্রাণিকুলে বেশ উপরে! ছোটবেলা থেকেই কাককে নোং’রা প্রাণী, ধূর্ত প্রাণী এসব নামে জেনে আসায় এর সম্পর্কে পজিটিভ কোন আইডিয়াই ছিলোনা, অথচ এই কাকের বু’দ্ধিমত্তা নিয়ে কত কত রিসার্চ হয়েছে, দেখলে ভিমড়ি খেতে হয়। সবচেয়ে বু’দ্ধিমান পাখি নাকি এই কাক! আচ্ছা, অবাক হচ্ছেন তো? অল্পকথায় কাক প্রজাতির কিছু বিশেষত্ব বলার চেষ্টা করি-

১। কাক এতটাই বু’দ্ধিমান যে, মানুষের পরে শিম্পাঞ্জি ও গরিলার বু’দ্ধিমত্তার প্রায় সমান বু’দ্ধি ওদের। কাকের শরীরের আকারের তুলনায় ব্রেইনের আকার বেশ বড়। শিম্পাঞ্জির বু’দ্ধিমত্তা ৬-৭ বছর বয়সের মানুষের বাচ্চার বু’দ্ধিমত্তার সমান, তেমন কাকেরও। শিম্পাঞ্জির মতো কাক আট’কে থাকা কোনো খাবার বের করে আনার জন্য হুকঅলা কাঠি ব্যবহার করে। শিম্পাঞ্জি সাধারণত উইপোকার টিবিতে কাঠি ঢুকিয়ে দিয়ে উইপোকা বের করে খায়। প্রাণিবিজ্ঞানীরা কাককে feathered apes বলে থাকেন। Mc Goan নামের একজন বিজ্ঞানী বলেছেন, কাক

২। কাকের স’ঙ্গে খারাপ কিছু ঘটলে পাঁচ বছর পর্যন্ত সেই ঘটনা তারা মনে রাখতে পারে। একটি কাক যে শুধু নিজের ভেতরেই রাগ পুষে রাখে তা নয়, নিজ দলের সবাইকেও সেই মানুষটার কথা জানিয়ে দেয়।কেউ যদি এদের একবার আ’ক্রমণ বা বির’ক্ত করে, এরা আগ্রাসী হয়ে তাকে আ’ক্রমণ করতেও দ্বিধা করে না। এমনকি অন্যান্য কাক এক হয়েও আ’ক্রমণকারীকে আঘা’ত করে থাকে।

৩।কাকের স্মৃ’তিশক্তি খুবই ভালো। নিজের লুকানো খাবার এরা নয় মাস পরেও খুঁজে বের করতে পারে। অন্য পাখি খাবার লুকিয়ে রাখার সময় তা কাক দেখলে প্রয়োজনে সেই লুকানো খাবার আনতে কখনো ভুল করে না।

৪।একটি কাক মা’রা গেলে অন্য কাকরা মিলে এর শেষকৃত্য করে। ঠিক মানুষের মতো। কাকদের জীবনের অদ্ভুত এই তথ্যটি গবেষণা করে বের করেছিলেন কাক গবেষক কেলি সুইফট। এরা মৃ’ত কাকদের আশপাশে জড়ো হয় বিপদের আচ পেলে, কোনভাবেই সেখান থেকে তাদের সরানো যায়না। এমনকি পেলেট গান দিয়ে গু’লি করেও না। কারণ কাকরা জানে ব’ন্দুকের গু’লি থেকে কত দূরে কখন থাকতে হবে।

তাছাড়া তাদের কোন সাথী কাক মা’রা গেলে দলে দলে কাক সেখানে ছুটে যায় এবং মর’া কাককে ঘিরে গোল হয়ে দাঁড়ায়। কোনো মানুষ বা অন্য প্রাণী দেখলে তাকে ক্ষু’ব্ধ হয়ে আ’ক্রমণ করে। মৃ’ত কাকটিকে কোনো কাক খায় না। বরং জানতে চায় কে তাকে মেরেছে? সেই মৃ’তদে’হ ঘিরে জোরে জোরে কা . . . . কা . . . করে অনেক সময় ধরে ডাকে। সব শেষে, কাকগু’লো চলে গেলেও জায়গাটার কথা মনে রাখে। ওই জায়গাতে অনেক খাবার থাকলেও আর কখনো কাকেরা ফিরে আসে না।

৫।এদের বু’দ্ধিমত্তার আরেকটি উদাহরণ দেই। ধরুন, বাদাম, আখরোট বা অন্য কোনো শক্ত খাবারের খোসা আমর’া হাত দিয়েই খুলতে পারি। স্বাভাবিকভাবেই কাকের সেই ক্ষমতা নেই। এরা এই ক্ষেত্রে ব্যবহার করে ট্রাফিক সিগন্যালকে। সিগন্যাল মুখস্থ রেখে ওপর থেকে সঠিক সময়ে খাবারটি ফেলে দেয়, যেন গাড়িটি সেটিকে পিষে দিয়ে না চলে যায়। ভেবেছেন খাবারটি রাস্তায় পড়ে থাকলেই কাক এসে তুলে নেয়? মোটেও নয়! এই বি’ষয়ে এরা কোনো তড়িঘড়ি করে না। ট্রাফিক সিগন্যালে গাড়িগু’লো যখন দাঁড়িয়ে যায়, তখনই ঠোঁটে করে খাবারটি তুলে নিয়ে ফেলে কাক। এমনভাবে গাছের ফলও পেড়ে খায় এর।

৬। আপনার যদি কখনও মনে হয়, কোন কাক আপনার দিকে তাকিয়ে আছে, আর পাশের কাকটির সাথে কথা বলছে। হ্যা, ধরে নিতে পারেন, সে আপনাকে নিয়েই কথা বলছে তার কাছে, যদি আপনি তার কোন ক্ষ’তি করে থাকেন। কাকদের নিজেদের মাঝে কথা বলার আলাদা ভাষা আছে, আলাদা টোন আছে। অন্য গোত্রের সাথে কথা বলারও ভাষা আছে। জরুরী কাজে ডাক দেয়ারও আলাদা টোন আছে।

৭। তাদের বু’দ্ধিমত্তার একটি অনন্য বিশেষত্ব হলো, এরা অনেক জটিল রহস্যের সমাধান করতে পারে। এরা তার বাকিয়ে হুক তৈরি করতে পারে, সম্ভবত এই ক্ষমতা প্রাণীজগতের মধ্যে মানুষের পর শুধু কাকেরই আছে। আর এই হুক দিয়ে জটিল ফাদ থেকেও খাবার টেনে বের করে খাওয়ার বু’দ্ধি রাখে।

৮। লম্বা পানির কলসিতে পানি নাগাল না পাওয়ায় এর ভেতর পাথর ফেলে পানির উচ্চতা বাড়িয়ে খাওয়ার যে গল্প আমর’া শুনেছি, এই গল্প কাকের রিসার্চে বাস্তব প্রমাণিত হয়েছে।

৯। SAT টেস্টে Analogy সেকশনে যে টেস্টগু’লো দেয়া হয়, তাতে হয়তো কাক আপনাকে হারাতে পারবেনা, কিন্তু এদের এনালোজি পাওয়ার অত্যন্ত প্রখর।একাধিক সম আকৃতির বস্তুর মধ্যে হালকা-ভারী আন্দাজ করতে পারে, বাইরে থেকেই নিরেট ও ফাপা বস্তুর পার্থক্য করতে পারে, পানির উচ্চতার তারতম্য আন্দাজ করতে পারে।

১০। এদের সামাজিকতার সেন্সও বেশ উন্নত। নিজেদের ভেতর দলীয় আলোচনায় যেমন দক্ষ, তেমন মানব সমাজের আশেপাশে মানুষের সাথে তাল মিলিয়ে কিভাবে থাকতে হয়, সেই জ্ঞানেও পারদর্শী।

এখানে ক্লিক করে ভিডিওটি দেখু’ন

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*